BLACK blog এ আপনাকে স্বাগতম! আপনি হতে পারেন BLACK blog পরিবারের নিয়মিত একজন সদস্য। আপনার লেখা প্রকাশ করতে পারেন আমাদের যেকোন বিভাগে। আমাদের বিভাগ সমূহঃ " পৃথিবী আজব ঘটনা, গুনিজন কহেন , জন্মদিনের উইস করার এসএমএস, সমস্যা পরামর্শ সমাধান , মেয়েদের মেহেদি ডিজাইন, বাচ্চাদের নাম , পৃথিবীর ঐতিহাসিক প্রবাদ, পর্দার পেছনের ঘটনা, যত অদ্ভুত আবিস্কার , কাল্পনিক কল্পনা, অন্যান্য এবং আরও কিছু, পৃথিবী আজব ঘটনা, ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৫, গুনিজন কহেন , জন্মদিনের উইস করার এসএমএস, সমস্যা পরামর্শ সমাধান , মেয়েদের মেহেদি ডিজাইন, বাচ্চাদের নাম , পৃথিবীর ঐতিহাসিক প্রবাদ, পর্দার পেছনের ঘটনা, যত অদ্ভুত আবিস্কার , কাল্পনিক কল্পনা, অন্যান্য এবং আরও কিছু, পৃথিবী আজব ঘটনা, ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৫, গুনিজন কহেন , জন্মদিনের উইস করার এসএমএস, সমস্যা পরামর্শ সমাধান , মেয়েদের মেহেদি ডিজাইন, বাচ্চাদের নাম , পৃথিবীর ঐতিহাসিক প্রবাদ, পর্দার পেছনের ঘটনা, যত অদ্ভুত আবিস্কার , কাল্পনিক কল্পনা, গুনিজন কহেন, অন্যান্য এবং আরও কিছু, পৃথিবী আজব ঘটনা, ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৫, গুনিজন কহেন , জন্মদিনের উইস করার এসএমএস, সমস্যা পরামর্শ সমাধান , মেয়েদের মেহেদি ডিজাইন, বাচ্চাদের নাম , পৃথিবীর ঐতিহাসিক প্রবাদ, পর্দার পেছনের ঘটনা, যত অদ্ভুত আবিস্কার , কাল্পনিক কল্পনা" যে কোন বিষয় সম্পর্কে। ধন্যবাদ - BLACK iz Limited এর পক্ষ থেকে! অন্যান্য এবং আরও কিছু, পৃথিবী আজব ঘটনা, ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৫, গুনিজন কহেন , জন্মদিনের উইস করার এসএমএস, সমস্যা পরামর্শ সমাধান , মেয়েদের মেহেদি ডিজাইন, বাচ্চাদের নাম , পৃথিবীর ঐতিহাসিক প্রবাদ, পর্দার পেছনের ঘটনা, যত অদ্ভুত আবিস্কার , কাল্পনিক কল্পনা, অন্যান্য এবং আরও কিছু, পৃথিবী আজব ঘটনা, ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৫, গুনিজন কহেন , জন্মদিনের উইস করার এসএমএস, সমস্যা পরামর্শ সমাধান , মেয়েদের মেহেদি ডিজাইন, বাচ্চাদের নাম , পৃথিবীর ঐতিহাসিক প্রবাদ, পর্দার পেছনের ঘটনা, যত অদ্ভুত আবিস্কার , কাল্পনিক কল্পনা, অন্যান্য এবং আরও কিছু, পৃথিবী আজব ঘটনা, ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৫, গুনিজন কহেন , জন্মদিনের উইস করার এসএমএস, সমস্যা পরামর্শ সমাধান , মেয়েদের মেহেদি ডিজাইন, বাচ্চাদের নাম , পৃথিবীর ঐতিহাসিক প্রবাদ,  পর্দার পেছনের ঘটনা, যত অদ্ভুত আবিস্কার , কাল্পনিক কল্পনা, গুনিজন কহেন, অন্যান্য এবং আরও কিছু, পৃথিবী আজব ঘটনা, ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৫, গুনিজন কহেন , জন্মদিনের উইস করার এসএমএস, সমস্যা পরামর্শ সমাধান , মেয়েদের মেহেদি ডিজাইন, বাচ্চাদের নাম , পৃথিবীর ঐতিহাসিক প্রবাদ, পর্দার পেছনের ঘটনা, যত অদ্ভুত আবিস্কার , কাল্পনিক কল্পনা

ভালবাসার গল্পঃ রাতের সাথে একা

১.

 

মধ্যরাতের ঝুলবারান্দায় বসে আছে শুভ। শুভকে ছুঁয়ে আছে তার অন্তহীন বিষাদ।

 

পাশের ফ্ল্যাটবাড়িগুলো সবে ঘুমোতে শুরু করেছে। সেদিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে শুভর মনে পড়ছে বাড়ির কথা। কতদিন সে বাড়ি যায়নি; বাড়ি..একটা চাপা অস্বস্তির মুখে সে বারান্দা ছেড়ে উঠে আসে তার টেবিলে। অন্যমনস্কতায় টেবিল থেকে কলম তুলে নেয়। পরক্ষণে ভেতরের রক্তক্ষরণে তা আবার টেবিলেই ছুঁড়ে ফেলে। বহুদিন কোনো শব্দই আর তার কাছে ধরা দেয় না অথচ কাগজ-কলম টেনে বসে থাকার অভ্যাসটা ‌ওকে ছেড়েও যায় না। সে তাকিয়ে থাকে টেবিলে রাখা পুরোনো খবরের কাগজের দিকে। কাগজের গায়ে পড়ে থাকা আলোটা আলগোছ আঙুলে তুলে নিতে নিতে সহসা শরীরে কাঁপন ধরে ওর। পিছনের অন্ধকার ওর কাঁধ স্পর্শ করলে সে চমকে তাকায়.. কে?

 

কেউ না.. দ্রুত স্পন্দন স্বাভাবিক করতে শুভ এরপর একটা সিগারেট ধরায়। লো ভলিউমে পোয়েটস অব দ্য ফলের ‘কার্নিভালো অব রাস্ট’ চালিয়ে রকিংচেয়ারে এসে বসে। সিগারেটে ধোঁওয়া ছাড়তে ছাড়তে তার ছায়াটিও ক্রমে যখন তাকে ছাড়িয়ে প্রকান্ড হয়ে ওঠে সে তখন ভাবে- এ অসহায়তা ছেড়ে তাকে বেরিয়ে আসতে হবে। চেয়ার ছেড়ে সে উঠে দাঁড়ায়, এবার একটা শাওয়ার এবং শাওয়ারের পর একটা হার্ড ড্রিংক বানিয়ে শুভ প্রতিরাতের মতো আজও বারান্দায় এসে বসবে। রাতের প্রগাঢ় স্তব্ধতার কাছে নিজেকে সমর্পণ করে ছোটো ছোটো চুমুক দেবে গ্লাসে। বাইরে থেকে শুভকে তখন ভীষণ শান্ত দেখাবে, ভেতরে ভেতরে ততটাই নিঃশব্দ দহনে ছাই হয়ে যাবে সে। সেই ছাই থেকে আবার জন্ম নেবে স্ফুলিঙ্গ আর এক এক করে উড়ে আসা সে স্ফুলিঙ্গ শুভর মনকে ঝলসে দেবে বারবার।

 

শহরের এদিকটা বেশ শান্ত। এখানে শুভ উঠে এসেছে মাসখানেক হলো। প্রথমবার যখন বাড়ি ছেড়ে এই শহরে সে এল তখন মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত সে। চেনাজানা বলতে এই শহরে কেবল তার খালা এবং খালার বাড়িটিই হয়ে ওঠে দুর্দিনের আশ্রয়ে নিজেকে ব্যস্ত রাখার একমাত্র ঠিকানা। এভাবে একসময় সে খালার পারিবারিক ব্যবসায় ঢুকে পড়ে, কিছুদিন পর বুঝে নেয় শেয়ার ব্যবসার ধরণ, আরও পরে একটা সময়ে এসে নিজের পায়ে দাঁড়াবার একটা ব্যবস্থা করে নেওয়া খুব কঠিন নয় বুঝে যায় ও। পরবর্তীতে একটা আলাদা মাথা গোঁজার জায়গাও সে নিজের জন্য ভাবতে পেরেছে। এখানে শুভ একা, কোলাহলো থেকে দূরে নিজের মতো করে একা অথচ তার মনের ভেতর এমন কিছু মানুষের বাস যাদেরকে মুছে ফেলে সম্পূর্ণ একা হয়ে ওঠা ওর হয় না। ভীষণ গোপনে সে লালন করে চলে বুকের সেই ক্ষত।

 

দূরে কোথাও একটা কুকুর কেঁদে উঠতে আবার চমকে ওঠে শুভ, মনে হলো, তার কানের কাছে ফিসফিস করে কেউ একজন বলছে- কেন এভাবে নিজেকে শেষ করছ? ফের গুটিয়ে যায় শুভ, কে কথা বলে..উফফ্.. মুক্তি নেই তার। জীবনের একটা বাঁকে এসে সে তো হারিয়ে ফেলেছে তার সমস্ত ধ্যানের উৎস সে কবিতাকেই। নিজের সাথে যুদ্ধ করে দিনরাত যে স্মৃতিকে দূরে সরাতে চায় শুভ তা কেন তাকে বারবার পরাজিত করে!

 

২.

 

সৌম্য চৌধুরী, কবি হিসেবে তখন তার নাম ডাক চারদিকে। মোটেও সহজ ছিল না সেই সৌম্য চৌধুরীর নজরে পড়া অথচ শুভ তা পেরেছিল যেন মন্ত্রবলে। শুভ নামের সেই তরুণটির দুচোখ ভরা স্বপ্নকে সৌম্যও অবহেলা করতে পারেনি। চোখ, সেই চোখদুটো কি শুভর এখনও আছে! আয়নায় খুঁটিয়ে নিজেকে দেখতে দেখতে সেই চোখের বদলে একজোড়া স্বপ্নহীন গ্লানিমাখা চোখ দেখতে পেয়ে দুহাতে মুখ ঢাকে সে। সেলফোনের আলোটা সেসময়ই জ্বলে, নেভে, বিপ্ বিপ্ করে.. শুভরও নিজেকে সামান্য অন্যদিকে সরিয়ে নেবার সুযোগ মেলে। ফোনের অন্যপ্রান্তে কারো সাথে দীর্ঘক্ষণ ধরে কথা বলার সময়ে তার চোখমুখ আগের চাইতে সামান্য সহজ হয়ে ওঠে কিন্তু ফোন ছাড়বার সামান্য পরেই আবার সে ডুবে যায় পূর্ববিষাদে।

 

কবিতা তাকে দিয়েছিল মুক্তির স্বাদ আর তার সাথে ছিল সৌম্য চৌধুরীর স্নেহের আড়াল। সৌম্যর প্রশ্রয়েই শুভর দিনগুলোর বেশিরভাগই মধ্যরাত অব্দি গড়াত কখনও সৌম্যর বাড়ির লাইব্রেরিতে, কখনও বা কোনো সাহিত্য আড্ডায়। বিভিন্ন সাহিত্যসভায় সৌম্য চৌধুরীর ছায়া হয়ে সাথে সাথে থাকত শুভ। তার স্নেহ, তার ধৈর্য্য, শুভকে শিখিয়েছিল স্থির এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাবার মন্ত্র।

 

– ভেবে দ্যাখ্ শুভ, জীবনের কাছে তোর আরও কিছু চাইবার আছে কি না?

 

শুভর রক্তে তার অনেককাল আগেই ঢুকে পড়েছিল কবিতার বীজ। যখন ও সৌম্যর কাছে ততদিনে তো পড়ালেখাও শেষ, শৈশবে পিতৃহীন শুভর বন্ধন ছিল শুধু মা, তিনিও সে বছরই চলে গেছেন অজানার টানে। শেকড় ছেঁড়া শুভর তখন শোকের ভার কাটাতেও কবিতাই একমাত্র সঙ্গী। আর কোনো পিছুটান, অর্থনৈতিক টানাপোড়েন সে অর্থে ছিল না। স্নায়ুর কোষে কোষে মেলে ধরা শব্দের হাতছানি পেয়েছিল বলে শুভ ভেবে পায়নি কবিতাকে ছেড়ে কবিতার বাইরে আর কিছু থাকে কি না। সৌম্যর বাড়িতে অজস্র বইয়ের ভেতর থেকে মাথা তুলে তাই শুভ দ্বিধাহীন বলেছিল, কেবল কবিতাই..

 

– কবিতা! কবিতা তোমার কাছে কখনও ধরা দেবে না শুভ!

 

রুমু বলেছিল। কলেজের সেই দিনগুলোতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যখন শুভ নিজের লেখা কবিতা পড়ত তখন অনেকের মুগ্ধ দৃষ্টিকেও সেসাথে সে পড়ে নিত। কলেজে এক বছরের জুনিয়র রুমুও সেভাবেই শুভর প্রতি প্রথমে মুগ্ধ তারপর অনুরক্ত হয়ে পড়ে। শুভ সেদিন রুমুকে ফিরিয়ে দিয়েছিল। কবিতার কাছাকাছিও কাউকে স্থান দিতে পারবে না বলে শুভ রুমুকে চায়নি। রুমু ফিরে গিয়েছিল। সেই রুমু যখন সৌম্য চৌধুরীর বউ, প্রথমবার জানবার পর সে যথেষ্ট বিচলিত বোধ করে। এরপর রুমুর সাথে শুভর দেখা বিচ্ছিন্নভাবে যে ক’বার হয়েছে শুভ তার অসামান্য চোখদুটো তুলে রুমুকেই দেখে গেছে। তার আগ অব্দি শুধু কবিতাই তো ছিল কিন্তু এবার শুভ বুঝতে পেরেছিল কবিতার বাইরেও আরও কিছু থাকে যাকে সে অস্বীকার করেছে, যাকে স্পষ্টতা দেয়নি শুধু কবিতার জন্যই অথচ আজ অন্য কোনো আকাশে রুমু যখন সন্ধ্যাতারার মতো জ্বলজ্বল করছে সেও কিন্তু তাকে ব্যথা দিচ্ছে। তবু সে ব্যথাকে সে গোপোনে লালন করেছে তার একান্ত কবিতার মতো করেই, কোনোভাবে তাকে ঈর্ষায় পরিণত করেনি শুভ।

 

সৌম্যর সাথে ছায়ার মতো থাকত সে। সৌম্য না থাকলেও তার বাড়ির লাইব্রেরিতে যখন তখন ঢুকে পড়া শুভর আটকায়নি কোনোদিন। দেশের বাইরে সাহিত্য সম্মেলনে যোগ দিতে সৌম্য চৌধুরী বেরিয়ে গেছে যতবার শুভ নিজের মতো করে সৌম্যর বাড়িতে যাতায়াত করেছে।

 

সেবার যখন সৌম্য চৌধুরী লন্ডনের একটি সেমিনারে অংশ নিতে সকালের ফ্লাইটে বেরিয়ে গেল সেদিনও শুভ সৌম্যর লাইব্রেরিতে ডুবে ছিল শার্ল বোদল্যের- এ। ‘স্প্লীন’ পড়তে পড়তেই হঠাৎ শুভর কাছে শব্দ এল হুড়মুড়িয়ে। শুভর কলমে শব্দরা একটু একটু করে শরীর পাচ্ছে, হয়ে উঠছে কবিতা..শুভ তন্ময় হয়ে তার আদল গড়ছে.. শুভর কাঁধ তখন স্পর্শ করে রুমু। শুভকে দেখাচ্ছিল ধ্যানীর মতো, শুভ মগ্ন তার সৃষ্টিতে.. রুমু তখন আরও ঘন হয়ে এসেছে শুভর কাছে, আচ্ছন্ন হতে হতে একসময় স্পর্শ করেছে সে শুভর মুখ। এমন অজানা স্পর্শ বুঝি ধ্যানকেও ভেঙে দেয়। সে চমকে তার চোখদুটো মেলে দেখেছিল রুমুকে। রুমুর চুলগুলো ঢেকে দিচ্ছিল শুভর মুখ। শুভর অবাক চোখ দুটোর পাতায় রুমু নামিয়ে এনেছিল ঠোঁট । বিস্ময়ের ধাক্কা সামলে শুভ সেদিনও রুমুকে ফেরাতে চেয়েছিল কিন্তু রুমুর সাথে সেদিন আর পারেনি। রুমু তখন শুভর কবিতাকে ছাড়িয়ে আরও বড়ো এক কবিতা হয়ে উঠেছে। দুরন্ত ঝড় বয়ে যাওয়া এক ঝিমদুপুরে বাইরে তখন একটানা ডেকে যাচ্ছে একটা ঘুঘু.. শুভর পার্কার পেন পড়ে আছে চুপচাপ লাল কার্পেটের শরীরে।

 

৩.

 

সেই প্রথমবার। সেদিন রুমু কেন তার কাছে সেভাবে এসেছিল শুভ জানতেও চায়নি কেবল পরে রুমু বেরিয়ে যাবার পর সে দীর্ঘ সময় লাইব্রেরির ভেতরই মাথা নিচু করে গ্লানিতে আচ্ছন্ন হচ্ছিল, ক্রমেই পরিষ্কার হয়ে উঠছিল ওর কাছে যে কেবল কবিতা নয় রুমুও ছিল বুকেরই ভেতর, রুমুকে সে অবচেতনে লালন করেছে নিজের অজান্তেই।

 

উঠে গিয়ে শুভ পোয়েটস অব দ্য ফল বদলে প্যারামোরের ‘মে বি আই ওয়াজ রং.’. চালিয়ে দিল। হাতের শূন্য গ্লাসটা ভরে নিয়ে একবার বারান্দা থেকে ঘুরে এল। তারপর টেবিল ল্যাম্পের আলোটাকে বার কতক জ্বালালো-নেভালো। খবরের কাগজে ছড়িয়ে থাকা আলোটাকে খানিক কাটিকুটি করল। আবার আঁকিবুকি কেটে রুমুর মুখটা আঁকবার চেষ্টা করল। স্পষ্ট ভেসে উঠছে সৌম্যর কাছে রুমুর অকপট স্বীকারোক্তি আর তার সামনে দাঁড়ানো শুভর ঝুলে পড়া মুখ। সৌম্য ফিরে আসবার প্রায় সাথে সাথে শুভর ডাক পড়েছিল তার বাড়িতে। সে গিয়েছিল বেশ কিছু সময় পর আর সৌম্যর প্রশ্নের সামনে নিরুত্তর শুভকে কিছুসময় অপলক দেখার পর সৌম্য ঢুকে গিয়েছিল নিজের লাইব্রেরিতে।

 

সে রাতেই শেষবারের মতো নিজের শহর পিছনে ফেলে উঠে আসে শুভ খালার বাড়িতে। দিন দুই ঘোরের মধ্যে কাটিয়ে তিনদিনের মাথায় কিছুটা মানসিকভাবে ধাতস্থ শুভ তার খালা খালুর সাথে ব্রেকফাস্ট টেবিলে বসে। চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে তুলে নেয় সেদিনের খবরের কাগজ। প্রথম পাতায় চোখ রাখতে হাতের কাপ থেকে চলকে পড়া গরম চা ভিজিয়ে দেয় সে কাগজ আর তা হাতে ধরে কথার মাঝে খালাকে হতভম্ব রেখে হঠাৎ বিমুঢ় শুভ ঢুকে যায় নিজের ঘরে, নিজের ভেতরকার আরও এক গহিন অন্ধকারে। তারপর নিজের কাছ থেকে নিজেকে লুকিয়ে ফেলতে দিনরাত এক করে ডুবে যাওয়া কাজে একটু একটু করে হয়ে ওঠে আজকের শুভ রহমান যার কাছে আর কোনো কবিতা ধরা দেয় না কিংবা দেবেও না। স্মৃতির সে গোপন ক্ষতটিও আর সারে না কখনও। হয়তো শুভ নিজেও আর সারাতে চায় না। কেবল ভীষণ একলা থাকার প্রতিটি রাতে শুভ কাগজ কলম হাতে নিয়েও ছুঁড়ে ফেলে আর টেনে নেয় সেই খবরের কাগজটা…

 



সর্বশেষ ১২টি:

.