BLACK blog এ আপনাকে স্বাগতম! আপনি হতে পারেন BLACK blog পরিবারের নিয়মিত একজন সদস্য। আপনার লেখা প্রকাশ করতে পারেন আমাদের যেকোন বিভাগে। আমাদের বিভাগ সমূহঃ " পৃথিবী আজব ঘটনা, গুনিজন কহেন , জন্মদিনের উইস করার এসএমএস, সমস্যা পরামর্শ সমাধান , মেয়েদের মেহেদি ডিজাইন, বাচ্চাদের নাম , পৃথিবীর ঐতিহাসিক প্রবাদ, পর্দার পেছনের ঘটনা, যত অদ্ভুত আবিস্কার , কাল্পনিক কল্পনা, অন্যান্য এবং আরও কিছু, পৃথিবী আজব ঘটনা, ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৫, গুনিজন কহেন , জন্মদিনের উইস করার এসএমএস, সমস্যা পরামর্শ সমাধান , মেয়েদের মেহেদি ডিজাইন, বাচ্চাদের নাম , পৃথিবীর ঐতিহাসিক প্রবাদ, পর্দার পেছনের ঘটনা, যত অদ্ভুত আবিস্কার , কাল্পনিক কল্পনা, অন্যান্য এবং আরও কিছু, পৃথিবী আজব ঘটনা, ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৫, গুনিজন কহেন , জন্মদিনের উইস করার এসএমএস, সমস্যা পরামর্শ সমাধান , মেয়েদের মেহেদি ডিজাইন, বাচ্চাদের নাম , পৃথিবীর ঐতিহাসিক প্রবাদ, পর্দার পেছনের ঘটনা, যত অদ্ভুত আবিস্কার , কাল্পনিক কল্পনা, গুনিজন কহেন, অন্যান্য এবং আরও কিছু, পৃথিবী আজব ঘটনা, ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৫, গুনিজন কহেন , জন্মদিনের উইস করার এসএমএস, সমস্যা পরামর্শ সমাধান , মেয়েদের মেহেদি ডিজাইন, বাচ্চাদের নাম , পৃথিবীর ঐতিহাসিক প্রবাদ, পর্দার পেছনের ঘটনা, যত অদ্ভুত আবিস্কার , কাল্পনিক কল্পনা" যে কোন বিষয় সম্পর্কে। ধন্যবাদ - BLACK iz Limited এর পক্ষ থেকে! অন্যান্য এবং আরও কিছু, পৃথিবী আজব ঘটনা, ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৫, গুনিজন কহেন , জন্মদিনের উইস করার এসএমএস, সমস্যা পরামর্শ সমাধান , মেয়েদের মেহেদি ডিজাইন, বাচ্চাদের নাম , পৃথিবীর ঐতিহাসিক প্রবাদ, পর্দার পেছনের ঘটনা, যত অদ্ভুত আবিস্কার , কাল্পনিক কল্পনা, অন্যান্য এবং আরও কিছু, পৃথিবী আজব ঘটনা, ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৫, গুনিজন কহেন , জন্মদিনের উইস করার এসএমএস, সমস্যা পরামর্শ সমাধান , মেয়েদের মেহেদি ডিজাইন, বাচ্চাদের নাম , পৃথিবীর ঐতিহাসিক প্রবাদ, পর্দার পেছনের ঘটনা, যত অদ্ভুত আবিস্কার , কাল্পনিক কল্পনা, অন্যান্য এবং আরও কিছু, পৃথিবী আজব ঘটনা, ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৫, গুনিজন কহেন , জন্মদিনের উইস করার এসএমএস, সমস্যা পরামর্শ সমাধান , মেয়েদের মেহেদি ডিজাইন, বাচ্চাদের নাম , পৃথিবীর ঐতিহাসিক প্রবাদ,  পর্দার পেছনের ঘটনা, যত অদ্ভুত আবিস্কার , কাল্পনিক কল্পনা, গুনিজন কহেন, অন্যান্য এবং আরও কিছু, পৃথিবী আজব ঘটনা, ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৫, গুনিজন কহেন , জন্মদিনের উইস করার এসএমএস, সমস্যা পরামর্শ সমাধান , মেয়েদের মেহেদি ডিজাইন, বাচ্চাদের নাম , পৃথিবীর ঐতিহাসিক প্রবাদ, পর্দার পেছনের ঘটনা, যত অদ্ভুত আবিস্কার , কাল্পনিক কল্পনা

ভালবাসার গল্পঃ ভাঙন

সকাল থেকে বৃষ্টি। ঝিরঝির করে কি এক বৃষ্টি পরছে। ঠাশ করে সবগুলো পানি একবারে পরে গেলেই হয় তানা, সারাদিন-রাত ধরে এক যন্ত্রণা। আজ আমার অনেকগুলো কাজ ছিল। একটাও হবেনা। কিচ্ছু ভাল্লাগছেনা।

 

আব্বু-আম্মুর ডিভোর্স হয়ে গেছে। আম্মু আলাদা থাকে আমার ছোটবোনকে নিয়ে। রান্না করে আব্বু নিজেই। চাকরীটা চলে গেছে নাকি আল্লাহ মালুম। সারাদিনি তো দেখি রান্নাঘরে পিয়াজ-মরিচ নিয়ে নাড়াচাড়া করতে। বাসা থেকে বেরই হয়না আজকাল। এই ২মাসেই তার বয়স ৫ বছর বেরে গেছে বলে মনে হয়। আগের বাসাটাও ছেরে দিতে হয়েছে আমাদের। ওইটা আমার নানার ফ্লাট ছিল। এখন আম্মু ওইখানে থাকে। ছোট্ট ২ রুমের একটা বাসা নিয়েছি আমরা বাসাবোতে। আগে ছিলাম ঝিগাতলায়।

 

আমি এবার অনার্স পাশ করেছি। রেসাল্ট অস্বাভাবিক ভাল। কিন্তু বেকার। ভাল চাকরি পাচ্ছিনা। আম্মু অফিসে যেতে বলেছিল। যাবযাব করে যাওয়া হচ্ছেনা। আজ অবশ্যই যেতাম। বৃষ্টি এসেছে ভাল, যাবার জন্য বোধয় সময় করে উঠতে পারছেনা। আমার ছোটবোন ক্লাস নাইনে পড়ে। নাম শিলু। আব্বু-আম্মুর ছাড়াছাড়ির সময় ও আমাদের সাথে থেকে যেতে চেয়েছিল। আম্মু জোর করে নিয়ে গেছে। আমার খুব আদরের ছিল বোনটা। মাঝে মাঝেই দেখতে ইচ্ছে করে। চক্ষুলজ্জার কারনে যেতে পারিনা। আমার চেহারার জীর্ণ দশা দেখে আমাদের অবস্থা আম্মু জেনে জাক এটা চাইনা। আমি আর আব্বু দুজনেই মনে মনে পন করে ফেলেছি, দুনিয়াকে দেখাব আমরা ভাল আছি। কারো জন্য কিছু থেমে থাকেনা।

 

কিন্তু আমার মনে হচ্ছে আমরা থেমে আছি। দিন আর রাত গুলোর এখন আর হিসেব রাখতে পারিনা। সকালে খেলে রাতের বেলা মনে করতে পারিনা দুপুরে খেয়েছি কিনা। জামা কাপড় গুলোর দশা দিনদিন খারাপ হচ্ছে। খাবারের বেবস্থা করতেই যেখানে বারোটা বেজে যায়, জামাকাপড়ের খেয়াল রাখাতো বিলাসিতা। আম্মু থাকতে এগুলো নিয়ে কখনো ভাবিও নেই। আমার আম্মু শাহজাহান মিলস এর চেয়ারম্যান। আমার নানা মালিক। আব্বু একটা পত্রিকা অফিসে কাজ করে। নানা অনেকবার বলেছিলেন তার কোম্পানিতে বসতে। আব্বু রাজি হননি। সামর্থ্য যাদের থাকেনা, আত্মসম্মানবোধ তাদের একটু বেশিই থাকে। এর বলি আমার মা। বাধ্যহয়ে নানার কোম্পানিতে বসলো। তবুও খারাপ চলছিলনা আমাদের সংসার। ভোরবেলা ভার্সিটি চলে যেতাম। সারাদিন বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে বাসায় এসে শিলুর সাথে খুনসুটি করতাম। আব্বু আমাকে আর শিলুকে নিয়ে টিভি দেখতে বসতো। আম্মু রান্না করতো। রাত ১১ টা বেজে যেত প্রতিদিন রাতের খাবার খেতে। আমাদের বাসায় কখনই বুয়া ছিলনা। আম্মু তার সংসার নিজে নিজে চালাতে চেয়েছিলেন। আরেকটা মেয়ের হাত লাগলে অমঙ্গল হতে পারে।

 

অমঙ্গল হল শেষ পর্যন্ত। আর ধৈর্য ধরে রাখতে পারলেন না আম্মু। ডিভোর্স এর সিদ্ধান্ত নেন জীবনের অনেকখানি সোনালি সময় ক্ষয়ে এসে। কিসের জন্য জানিনা। সবকিছু যদি আগের মত হয়ে যেত!

 

সন্ধায় নিজের রুমে বসে আছি এমন সময় মোবাইলে রিং বেজে উঠলো। অপর পাশ থেকে রাকার চিৎকার, ‘দেখা করলিনা কেন?’, ‘বৃষ্টি’ মনে হল ফোনে কিছুক্ষণ গোলাগুলির আওয়াজ শুনলাম। ‘এই বৃষ্টিতে কি হয়?’ আমি বললাম, ‘এই বৃষ্টিতে কিছুই হয়না। দেখাও হয়নি। অন্য কোন বৃষ্টি হলে ভেজা যেত।’ অপর পাশ থেকে টিংটিং আওয়াজ শুনলাম। ফোন রেখে দেওয়ার সংকেত। আমি রাকাকে ভালবাসি। রাকাও বাসে। কিন্তু কেউ কাউকে এখনো বলনি মনের কথা। মনের কথা বোধয় মুখে বলতে হয়না, মনে মনেই বুঝে নিতে হয়।

 

আব্বুকে নিয়ে বাজারে গেলাম। জোর করে নিয়ে এসেছি। বাসার রান্নাঘরে আব্বুর শিকড় গজিয়ে গেছে। আজ এর মূলউৎপটন করেছি। আম্মু আমাকে কিছু টাকা পাঠিয়েছে। আজ এটা দিয়েই বাজার হবে। আব্বু জানেনা। আম্মু আমাকে প্রায়ি টাকা পাঠায়। ৫ মিনিটের পথ। তবুও একটা রিকশা নিয়ে নিলাম। আগেতো সবসময় আম্মুর গাড়িতে করেই চলাফেরা করতাম। আগের কথা গুলো ভাবলে স্বপ্ন মনে হয়। রিকশাতে আব্বুকে নতুন করে ঢাকা শহরটা চিনালাম। আমার বেশ মজা লাগছে। ছোটকালে আব্বু এরকম করে আমাকে সবকিছু চেনাতেন। ‘ওই যে দেখ ফ্লাই ওভার। মনে আছে তোমার? এটার উপর আগে গাড়ি পার্ক করে আমরা দাড়িয়ে থাকতাম? আম্মু ভয়ে একেবারে কিনারায় দাড়িয়ে থাকতো, যাতে কোন গাড়ি এসে পিষে ফেলতে না পারে!’ আব্বু মুচকি হেসে দিল। এরপর হো হো করে হাসতে শুরু করলো। আব্বুর মধ্যে কি কোন প্রকার পাগলামির লক্ষন দেখা দিচ্ছে?

রিকশা থেকে নেমে দেখি পকেটে টাকা নেই। কোথাও পরে গেছে হয়তো। আব্বু আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমার প্রচণ্ড ভয় লাগছে। হাত-পা নাড়াতে পারছিনা। কপাল থেকে গড়িয়ে ঘাম পড়ল চোখের উপর। হটাত চারপাশ অন্ধকার হয়ে গেল। চোখ খুলে দেখি আমি হাসপাতালে।

 

২দিন পর ছাড়া পেলাম। নার্সের কাছে শুনলাম একটা মহিলা আমাকে দেখতে এসেছিল। চিঠি দিয়ে গেছে একটা। জিজ্ঞেস করলাম আব্বুর কথা। আমাকে ভর্তি করিয়ে দিয়ে এই ২ দিনে আর আসেনি আব্বু। চিঠি খুলে দেখলাম আম্মুর চিঠি।

 

‘তোমার অবস্থা তো অনেক খারাপ। আগে ডাক্তার দেখাওনি কেন? স্বাস্থ্যের এই অবস্থা কেন? নিয়মিত দুধ খাবে। ফল খাবে বেশি করে। আমার সাথে দেখা করবে সুস্থ হলেই। শিলু তোমাকে দেখতে চাচ্ছিল অনেকদিন থেকে। হাসপাতালে নিয়ে আসিনি। হাসপাতাল জায়গাটা অলুক্ষুনে।

 

দুর্বল লাগছিল খুব। নিচে এসে দেখি বাবা দাঁড়ানো। খুব হৈচৈ করছেন। কাছে যেয়ে দেখি বাবা চিবিয়ে চিবিয়ে বলছেন, ‘আমার ছেলের মেডিকেল ট্রিটমেনট এর খরচ আরেকজন দিবে আর আমি বাবা হয়ে চুপচাপ থাকব? তুই চুপচাপ থাক। এই টাকা নিয়ে আগের দেওয়া টাকা পুড়িয়ে ফেল যা খুশি তাই কর। আমি মড়ে গেছি?’ বাবাকে ধরে বাসায় নিয়ে আসলাম। বাবা আমার হাতে টাকা গুলো দিয়ে বলল ‘তোর মার কাছে দিয়ে আয়। এক্ষুনি যা।’ খুব দুর্বল লাগছিল। বাবাকে বুঝতে না দিয়ে বাইরে বেড়িয়ে গেলাম। টাকাগুলো দিয়ে কিছু ফলমূল কিনলাম। আমি জানি সবাই জানে শুধু আব্বুই জানেনা, আমার খরচের এক শতাংশ টাকাও এটা না।

 

অনেকদিন পর আমাদের পুরনো বাসাটায় গেলাম। নক করতেই আম্মু সাথে সাথে খুলে দিল। এই কয়দিনে আম্মুর পরিবর্তন দেখে অবাক হলাম। মনে হচ্ছে বয়স অনেক বছর কমে গেছে। চেহারার ভাজগুলো আর নেই। হাতের ফলগুলো আম্মুকে দিলাম। ভিতরে যেয়ে দেখি সব নতুন। নতুন পর্দা, নতুন রং, নতুন পার্টিশন। সুন্দর লাগছে দেখতে। তবুও কেন জানি বুকের এক কোনায় কিছু কষ্ট দলা পাকিয়ে নিভে গেল। আম্মু বলল, ‘শিলু তো নেই। স্কুল এ গেছে।’ আমি বললাম, ‘তোমাকে দেখতে এসেছি। ভাল আছ আম্মু?’ আম্মু হেসে দিল। ভাল আছে স্পষ্টই বোঝা যায়। আমাকে ঘুড়িয়ে ঘুড়িয়ে পুরো বাসার নতুন জিনিষ গুলো দেখাল। একেকটা জিনিষ দেখায় আর বলে, ‘বলতো দাম কত এটার? অরিজিনাল পাকিস্তানি।’ আমি ইচ্ছে করে দাম অনেক বাড়িয়ে বলছি আর শুনার পর আম্মু বিজয়ীর হাসি হেসে বলছে তার জিনিষটা সস্তায় পাওয়ার রহস্য। আম্মুকে এরকম উত্তেজিত দেখে ভাল লাগছে। আম্মু বোধয় জানেনা, আম্মুর কেনা একটা ফুলদানির টাকা দিয়ে আমাদের পুরো মাস চলে। খুব ক্লান্ত লাগছিল। হাসপাতাল থেকে রিলিজ হওয়ার পর এখনো কিছু খাইনি। বের হয়ে গেলাম বাসা থেকে। ভেবেছিলাম আম্মু খাওয়ার জন্য জোরাজুরি করবে। কিসের কি! জিজ্ঞেস ও করলনা খাওয়ার কথা। এখন মনে হচ্ছে আম্মু ভাল নেই। ভাল আছি ভেবে নিজের সাথে নিজে প্রতারণা করে চলছে। এক সংসারের চাপ থেকে বাচতে যেয়ে পুরো জগত সংসারের চাপ তার ঘাড়ের উপর পড়েছে। শিলু কেমন আছে জানা হলনা।

 

বাসায় যেয়ে দেখি আব্বু হাতে কিসব কাগজ পত্র নিয়ে বসে আছে। খুব চিন্তিত। আমাকে দেখে কাগজ গুলো এগিয়ে দিয়ে বলল ‘দেখ তো কি লেখা? এগুলো তোর রিপোর্ট।’ আমিও বুঝলামনা। বললাম, ‘রিপোর্ট দিয়ে আর কি হবে? এগুলো দেখাতে গেলে আবার অনেকগুলো টাকা চলে যাবে।’ আব্বুর জিদের বসেই আবার গেলাম ডাক্তারের কাছে। ডাক্তার বললেন আমার লিউকোমনিয়া। এক জাতিও ক্যান্সার। বিদেশ নিতে হবে। আমি খুব অবাক হলাম। এটা হওয়ার কথা ছিলোনা। রাকাকে তো এখনো ভালবাসিই বলা হলনা। আব্বু কি করবে আমি চলে গেলে? আম্মু কষ্ট পাবেনা? শিলু? আব্বুকে নিয়ে বের হয়ে গেলাম। রাস্তার পাশে বসে ৫ টাকার বাদাম কিনলাম। আব্বু কথা বলছেনা। আমি স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করলাম। পারলামনা বোধয়।

 

পরদিন ঘুম থেকে উঠে দেখি ভয়ানক কাণ্ড। আমার নানাজান চেয়ারে বসে চা খাচ্ছেন। আমাকে দেখে বললেন, ‘তোমার বাবার কি বুদ্ধিশুদ্ধি লোপ পেয়েছে নাকি? ভোর ৫ টা বাজে আমার দরজায় নক করে হাউমাউ কান্না। মানুসের তো কিছু কমনসেন্স থাকা উচিত। আমাকে হরহর করে কি বলল তোমার নাকি অসুখ। বিদেশে নিতে হবে টাকা লাগবে। আমি এখন টাকা কোথায় পাব? মেয়েকে বেবসায় বসিয়ে জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল করেছি। দুহাতে টাকা উড়াচ্ছে। আরে টাকা কি কবুতর নাকি যে উড়িয়ে শান্তি ঘোষণা করবি?’ নানা আমার সাথে বৈষয়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু করে দিয়েছে। মাথাটা বেথা করছে। আবার ঘুমাতে যেতে ইচ্ছে করছে কিন্তু সম্ভব না। রাকা দেখা করতে বলেছে।

শিলুর ফোন। ‘ভাইয়া, তোমার ক্যান্সার?’ আমি হেসে দিলাম। ‘কেমন আছিস রে? খোজখবর নিতে ইচ্ছে করেনা না? তাতো করবেইনা! বড়লোকদের এত সময় কোথায়?’ ‘ফাযলামি করবেনা। আমি বড়লোক আর তুমি আমার ভাই। মানে তুমিও বড়লোক। তুমি বলে বিদেশে যাচ্ছ ভাইয়া?’ কণ্ঠে উত্তেজনা এনে বললাম, ‘হম। তোর জন্য কি আনব?’ ‘অনেক কিছু। আমি এখনো লিস্ট করিনি। করা শেষ করে তোমার সাথে দেখা করে হাতে লিস্ট ধরিয়ে দিব। সবগুলো নিয়ে আসবে।’ আহারে! আমার বোনটা এখনো ছোট!

 

বিদেশ কেন, দেশে চিকিৎসা করার টাকাও আমাদের নেই। তারমানে হাতে সময় নেই। বিদায় নিতে হবে। পাব্লিক লাইব্রেরীর সিঁড়িতে রাকা বসে আছে। পাশে যেয়ে বসলাম। ‘পরশু তোর সময় হবে?’ আমি গম্ভির হয়ে বললাম, ‘না। বিদেশ যাচ্ছি। টিকেট রেডি, ভিসা রেডি। আমি রেডি হলেই হল।’ ‘কে যাচ্ছে বিদেশ? কোন দেশে?’ আমি একটু চুপসে গেলাম। ‘মনে হয় ব্যাংকক! পাতয়া বিচ দেখব। ওখানকার মেয়েগুলো নাকি দেখার মত।’ ‘আর এখানকার মেয়েগুলো নাক সিটকানোর মত?’ আমি ওকে দেখিয়ে দেখিয়ে নাক সিটকালাম। বোধয় একটু কষ্ট পেল ও কিন্তু তাতে কিছু আসে যায়না। পরম কষ্ট আমি নিজেই পেতে যাচ্ছি কিছুদিন পর।

 

আমার অবস্থা দুইদিনে আরও খারাপ হয়ে গেল। রাতদিনের তফাত বুঝিনা। শিলু ফোন দিল একদিন। কথা বলার মাঝখানে আব্বু এসে ফোন টান দিয়ে নিয়ে গেল। আব্বু জিজ্ঞেশ করল, ‘কার সাথে কথা বলিস?’ আমি বললাম, ‘কানে দাও বুঝতে পারবে।’ আব্বু আমার দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে চলে গেল। ফোনটা হাতে নিয়ে দেখি বন্ধ। খুলে দেখি কল লিস্টে রাকার নাম্বার  সেটাও ৩ ঘণ্টা আগের। দেখলাম ৫ মিনিট কথা বলেছি। কখন বললাম? তিন ঘণ্টা আগে আমি কই ছিলাম? আমার কাছে আমার দুনিয়াটা তালগোল পাকিয়ে যেতে লাগলো।

 

কতদিন পরে জানিনা। একদিন দেখি আম্মু বসে আছে খাটে। স্বপ্ন নাকি বুঝতে পারছিনা। আম্মু আমার মাথার পাশে কিছু রেখে চলে গেলেন। আমি ঘাড় ঘুড়িয়ে দেখি কিছু কাগজ। এগুলো পড়ার অবস্থা আমার না। শিলু এসে বসলো পাশে। বুঝলাম এটা স্বপ্ন। ‘ভাইয়া, এইজে দেখেছ? তোমার প্লেন এর টিকেট?’ আমি মনে মনে জবাব দিলাম, ‘দেখেছি। প্লেন এর টিকেট টা সুন্দরনা। রঙ এমন কেন? নিল আর সাদায় করলে ভাল হত।’ শিলু আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিল। হাসি পাচ্ছে। এইটুকুন একটা মেয়ে কত মমতায় তার কচি হাত দিয়ে কপাল ধরছে। ওর ছলছল চোখের দিকে তাকিয়ে ভাল হয়ে যেতে ইচ্ছে করল। ইচ্ছেটা বেশিক্ষণ থাকলোনা। কারন আমি জানি এটা শুধুই স্বপ্ন।

 

বিমানবন্দরের ওয়েটিংরুমে বসে আছি। আমাকে বিদায় দিতে সবাই এসেছে। রাকা, আম্মু, শিলু, নানা, কত পুরাতন বন্ধুরা… আব্বু কোথায়? তাকে দেখছিনা কেন? মুখে কিছু বলার জোর নেই আমার। আস্তে আস্তে সবাই শুভকামনা করে বিদায় নিয়ে নিচ্ছে। রাকা এলো। চোখে পানি কিন্তু হাসিহসি মুখ করে বলল, ‘তুমিনা বলেছ পাতয়া বিচে মেয়ে দেখতে যাবে? সত্যি সত্যি কোন মেয়ের দিকে তাকালে কিন্তু খবর আছে! দেশে আসার সাথে সাথে আমাকে বিয়ে করে ঘরে তুলবে বুঝেছ?’ শিলু এসে হাতে লিস্টটা ধরিয়ে দিলো। কিছু বাদ পরলে বলেছে দেশে ঢুকতে দিবেনা। বাকি জীবন এই বিমানবন্দরে শুয়ে-বসে কাটাতে হবে। আমি লাইনে ঢুকে পরেছি। হুইল চেয়ারে করে নানা ঠেলে নিয়ে যাচ্ছেন। আব্বু কোথায়? আম্মুকেত দেখছি ওই কোনায় দাড়িয়ে কখন থেকে কাঁদছে। যাবার একেবারে শেষ মুহূর্তে দেখলাম আব্বুর কাধে আম্মু মাথা রেখে অঝোরে কাদছে। শিলু রাকাকে জড়িয়ে ধরে রেখেছে। এদের দেখে আমার বাচার তৃষ্ণা অনেক গুন বেড়ে গেল। আমি বুঝতে পারছি, এযাত্রা হয়ত আর মরছিনা!



সর্বশেষ ১২টি:

.