BLACK blog এ আপনাকে স্বাগতম! আপনি হতে পারেন BLACK blog পরিবারের নিয়মিত একজন সদস্য। আপনার লেখা প্রকাশ করতে পারেন আমাদের যেকোন বিভাগে। আমাদের বিভাগ সমূহঃ " পৃথিবী আজব ঘটনা, গুনিজন কহেন , জন্মদিনের উইস করার এসএমএস, সমস্যা পরামর্শ সমাধান , মেয়েদের মেহেদি ডিজাইন, বাচ্চাদের নাম , পৃথিবীর ঐতিহাসিক প্রবাদ, পর্দার পেছনের ঘটনা, যত অদ্ভুত আবিস্কার , কাল্পনিক কল্পনা, অন্যান্য এবং আরও কিছু, পৃথিবী আজব ঘটনা, ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৫, গুনিজন কহেন , জন্মদিনের উইস করার এসএমএস, সমস্যা পরামর্শ সমাধান , মেয়েদের মেহেদি ডিজাইন, বাচ্চাদের নাম , পৃথিবীর ঐতিহাসিক প্রবাদ, পর্দার পেছনের ঘটনা, যত অদ্ভুত আবিস্কার , কাল্পনিক কল্পনা, অন্যান্য এবং আরও কিছু, পৃথিবী আজব ঘটনা, ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৫, গুনিজন কহেন , জন্মদিনের উইস করার এসএমএস, সমস্যা পরামর্শ সমাধান , মেয়েদের মেহেদি ডিজাইন, বাচ্চাদের নাম , পৃথিবীর ঐতিহাসিক প্রবাদ, পর্দার পেছনের ঘটনা, যত অদ্ভুত আবিস্কার , কাল্পনিক কল্পনা, গুনিজন কহেন, অন্যান্য এবং আরও কিছু, পৃথিবী আজব ঘটনা, ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৫, গুনিজন কহেন , জন্মদিনের উইস করার এসএমএস, সমস্যা পরামর্শ সমাধান , মেয়েদের মেহেদি ডিজাইন, বাচ্চাদের নাম , পৃথিবীর ঐতিহাসিক প্রবাদ, পর্দার পেছনের ঘটনা, যত অদ্ভুত আবিস্কার , কাল্পনিক কল্পনা" যে কোন বিষয় সম্পর্কে। ধন্যবাদ - BLACK iz Limited এর পক্ষ থেকে! অন্যান্য এবং আরও কিছু, পৃথিবী আজব ঘটনা, ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৫, গুনিজন কহেন , জন্মদিনের উইস করার এসএমএস, সমস্যা পরামর্শ সমাধান , মেয়েদের মেহেদি ডিজাইন, বাচ্চাদের নাম , পৃথিবীর ঐতিহাসিক প্রবাদ, পর্দার পেছনের ঘটনা, যত অদ্ভুত আবিস্কার , কাল্পনিক কল্পনা, অন্যান্য এবং আরও কিছু, পৃথিবী আজব ঘটনা, ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৫, গুনিজন কহেন , জন্মদিনের উইস করার এসএমএস, সমস্যা পরামর্শ সমাধান , মেয়েদের মেহেদি ডিজাইন, বাচ্চাদের নাম , পৃথিবীর ঐতিহাসিক প্রবাদ, পর্দার পেছনের ঘটনা, যত অদ্ভুত আবিস্কার , কাল্পনিক কল্পনা, অন্যান্য এবং আরও কিছু, পৃথিবী আজব ঘটনা, ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৫, গুনিজন কহেন , জন্মদিনের উইস করার এসএমএস, সমস্যা পরামর্শ সমাধান , মেয়েদের মেহেদি ডিজাইন, বাচ্চাদের নাম , পৃথিবীর ঐতিহাসিক প্রবাদ,  পর্দার পেছনের ঘটনা, যত অদ্ভুত আবিস্কার , কাল্পনিক কল্পনা, গুনিজন কহেন, অন্যান্য এবং আরও কিছু, পৃথিবী আজব ঘটনা, ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৫, গুনিজন কহেন , জন্মদিনের উইস করার এসএমএস, সমস্যা পরামর্শ সমাধান , মেয়েদের মেহেদি ডিজাইন, বাচ্চাদের নাম , পৃথিবীর ঐতিহাসিক প্রবাদ, পর্দার পেছনের ঘটনা, যত অদ্ভুত আবিস্কার , কাল্পনিক কল্পনা

ভালবাসার গল্পঃ আমি চাইনি বলেই কি দাওনি

ঈদ সামনে তাই শপিং মল গুলোতে ভীড় হবে এটাই স্বাভাবিক,কিন্তু তাই বলে এতো ভীড়…!উফফ…!খুবই বিরক্ত হচ্ছে রাশেদ,অনেক চেষ্টা করেও স্বাভাবিক থাকতে পারছেনা,এতো মানুষের ভীড়ের মধ্যে শপিং করতে আসার কি দরকার আছে?ঈদের শপিং না করে কি মানুষ ঈদ উদযাপন করে না?!হুহ…!

 

মিতু বুঝতে পারছে  রাশেদ একটু না প্রচন্ড  পরিমানে বিরক্ত হচ্ছে,কিন্তু সে তা দেখেও না দেখার ভান করে জিনিস কেনায় মনোযোগ দিচ্ছে।সে কি করবে?

সেই কবে থেকে রাশেদ  কে বলছে,’চল শপিং টা সেরে ফেলি,না হলে ঈদের আগে অনেক ভীড় হবে মার্কেটে’ কিন্তু নাহ…কে শোনে কার কথা!এখন বোঝ মজা…!

রাশেদ আর মিতুর বিয়ে  হয়েছে মাস ছ’য়েক হয়ে এলো,বিয়ের পর এই প্রথম স্বামী-স্ত্রী এক সাথে শপিং এ বের হয়েছে।রোজার ঈদে তেমন কেনা-কাটা করতে হয়নি,বিয়ের পর প্রথম ঈদ ছিল,আত্নীয়-স্বজনদের গিফট এর বন্যায় শপিং করার আর প্রয়োজন হয়নি,কিন্তু এবার ঈদে সবাইকে কিছু না কিছু গিফট করার নিয়ত করেছে তাই নিজেদের ই শপিং এ বের হতে হয়েছে…

 

মিতুর ধারনা সে আর রাশেদ দু’জনেই দুই দুনিয়ার মানুষ!ওর কোন সিদ্ধান্তের সাথে রাশেদের সিদ্ধান্ত মিলবে এটা ভাবা কল্পনাতীত!

রাশেদ মিতুর খালার  বান্ধবীর আত্নীয়,একই পাড়ায় বাড়ী না হলেও খুব একটা দূরত্ব ও না,আর দুই পরিবারের মধ্যে জানা-শোনা ছিল অনেকদিনের।

রাশেদ একটা ব্যাঙ্কে জব করছে,আর মিতু ইউনিভার্সিটিতে সেকেন্ড ইয়ারে পড়ছে।দু’জনের মধ্যে বয়সের দূরত্বটা বেশ ভালোই আছে,আর রাশেদকে মিতুর কোন কালেই পছন্দ ছিল না,কেন পছন্দ ছিল না তার কোন স্পেসেফিক কারন মিতু বলতে পারবে না,কিন্তু কেন জানি ওর রাশেদকে কখনোই ভালো লাগতো না।সে জন্যই যখন খালা ওদের বিয়ের কথা তুলেছিল তখন মিতু প্রবল বিরোধিতা করেছিল,কিন্তু শক্ত কোন যুক্তি দেখাতে পারেনি বিধায় ওর কথা তেমন কেউ কানে তুলেনি।

ছেলে ভালো চাকরী  করছে,পরিবার ভালো,সব দিকই ঠিক আছে তাহলে শুধু শুধু আপত্তি করার কি আছে?এসব ভেবে মিতুও নিজেকে অনেক স্বান্তনা দেয়ার চেষ্টা করছে,কিন্তু সব কিছুর পরেও ওর কেন জানি রাশেদকে ভালোই লাগেনা….!

কিন্তু কি আর করা…!বিয়ে  হয়ে গেল।মিতুর ভাবতে অবাক লাগে,যেই লোককে ওর একদমই পছন্দ ছিল না তার সাথে গত ছ’মাস ধরে ও সংসার করছে!!মুরুব্বীরা সম্ভবত এ জন্যই বলে থাকেন,”একবার বিয়ে হয়ে গেলে পরে এমনিতেই সব ঠিক হয়ে যায়…”মিতুর মনে হয় সব ঠিক না হলেও দিন কেটে যায় এটা ঠিক।

রাশেদ বিয়ের রাতেই  মিতুকে বলেছিল,”দেখো,আমি এ যুগের ছেলেদের মতো অনেক স্মার্ট না,আমার বাবা নেই,অনেক কষ্ট করে এ পর্যন্ত এসেছি।আমি খুব সাধারন একটা মানুষ,এবং সাধারন ভাবেই থাকতে পছন্দ করি,তুমি এই যুগের মেয়ে আমার অনেক কিছুই তোমার ভালো লাগবে না আমি জানি,কিন্তু কিছু করার নেই,কষ্ট করে মানিয়ে চলতে হবে তোমাকে,এবং আশা করি তুমি তা করবে…ওকে?”

খুব অবাক হয়েছিল  মিতু রাশেদের এই কথা শুনে!!রাশেদ  কি এটা বলতে পারতো না,”যে আমরা দু’জনেই চেষ্টা করবো দু’জনের পছন্দ অপছন্দের সাথে মানিয়ে চলতে” স্বামী-স্ত্রীর সুন্দর সম্পর্ক মেইনটেন করার সাথে যুগের কি সম্পর্ক?!যুগের দোহাই দিয়ে কি সম্পর্ক মেইনটেন করার যায়…?!!কিন্তু কথা গুলো আর বলা হয়নি,বললে হয়তো ভাববে,ও এখনো অনেক ছোট তাই না বুঝেই বেশী কথা বলছে।গত ছ’মাস মিতু তাই এটাই করে এসেছে…মানিয়ে চলা… মাঝে মাঝে রাশেদ অফিসে চলে গেলে মিতু আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেই নিজেকে অনেকবার প্রশ্ন করে,’

‘রাশেদের কোন জিনিসটা আমার ভালো লাগে?’

কিন্তু কোন উত্তর  পায় না,মানুষটার কোন জিনিস ভালো না লাগলেও খুব একটা খারাপ লাগে না।আসলে মিতু বিয়ের রাতেই রাশেদের কথা শুনে মনের  ভেতর পাথর চাপা দিয়ে নিয়েছিল,ওর মনে হয়েছিল,এই মানুষটার কাছে ওর নিজের পছন্দ -অপছন্দ কিংবা তার নিজের পছন্দ বুঝতে চেষ্টা করা, দাবী করাটা অর্থহীন,তার থেকে ভালো চুপ চাপ মানিয়ে নিয়ে দিন পাড় করে যাওয়া।কিন্তু মাঝে মাঝে যখন মুভি দেখে,কিংবা বান্ধবীদের সংসার,ভালোবাসার গল্প শুনে তখন বুকের ভেতর একটা চাপা কষ্ট ভীষন অনুভব করে…

 

১২টা বেজে এলো প্রায়,অনেক হাঁপিয়ে উঠেছে মিতু শপিং করতে করতে।

একপাশে দাঁড়িয়ে  রাশেদকে বলল,’একটু লিষ্টটা বের করে মিলিয়ে দেখবে কি?কতোটুকু শপিং হলো আর কার কার টা বাকী আছে…’

রাশেদ পকেট থেকে লিস্ট  বের করে মেলাতে লাগল।মিতু  ব্যাগ থেকে পানি বের করে  খেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল।”হুম,সবার শপিং ই হয়ে গেছে,শুধু বড় ভাইয়ার পাঞ্জাবী আর ভাবীর শাড়ী টা হলেই হবে।”

মিতু ভীড় ঠেলে ঢুকে বাকী দু’টো জিনিস কিনে বের হতেই দেখল রাশেদ সিএনজি ঠিক করছে।মিতু কিছুক্ষন থমকে দাঁড়িয়ে রইল…

কেন জানি ওর চোখ দুটো ছলছল করে উঠল…!ও আশা করেছিল রাশেদ  শপিং শেষে ওকে বলবে,’চল কোথাও বসে লাঞ্চ করে নেই,অনেক ক্ষুধা পেয়েছে নিশ্চয়ই তোমার,আজকে না হয় একবেলা বাইরেই খাই…।’

মিতু মাথা নিচু করে  সামনে এগুতে যেয়ে একবার  পেছনে ফিরে তাকালো,একটা নীল রঙ এর শাড়ী খুব পছন্দ হয়েছিল…

 

সারা পথ মিতু কোন  কথা বলল না,রাশেদ একা একাই শপিং মলের ভীড়,জিনিসের দাম নিয়ে কি কি সব লেকচার দিল কিছুক্ষন,মিতু কোন রেসপন্স করছে না দেখে পড়ে নিজে থেকেই চুপ হয়ে গেল।

মিতু বাইরে তাকিয়ে  নিজের কষ্ট গুলোকে বাতাসের  সাথে উড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করল একটু…কি লাভ কষ্ট পেয়ে?এমন কেউ তো আর নেই যে ওর কষ্ট বুঝবে কিংবা কষ্টের ভাগ নিবে…

মাঝে মাঝে মিতুর  মনে হয়,ও কেন চুপ করে থাকে?কেন রাশেদ কে ওর মনের কথা বলে না?কেন আবদার করে না স্ত্রী হিসেবে,বন্ধু হিসেবে…?

কেন পারেনা বলতে?কিন্তু মিতু আসলেই পারে না,হয়তো ভয়ে,না হয় সংকচের কারনে।

মিতু এই ছ’মাসে কখনোই রাশেদের কাছে কিছু আবদার করেনি,না শাড়ি-গহনা,না ঘুরতে যাওয়া নিয়ে…আর দশটা বউয়ের মতো স্বামীর কাছ থেকে কিছু চেয়ে নিতে ওর ইচ্ছে করে না,ও চায় রাশেদ নিজে থেকেই তার স্ত্রীর জন্য কিছু করুক।কিন্তু রাশেদ মনে হয় না তা বুঝে…

বরং সেদিন এক ভাসুর  এসে তার বউয়ের আবদারে অতিষ্ট হওয়ার গল্প যখন করছিলেন,ও তখন খুব গর্ব করেই বলছিল,”সেদিক থেকে আমি অনেক ভাগ্যবান,মিতু আজ পর্যন্ত আমার কাছে কিছুই আবদার করে না,ও খুব অনুগত আর সংসারী একটা মেয়ে,আমি যেভাবে যা বলি তাই শোন…”

মিতু সব শুনে শুধু মুচকি হেসেছিল।

হুম,রাশেদ ঠিকই বলেছে,আসলেই সে ভাগ্যবান যে এ যুগের মেয়েদের মতো বউ সে পায়নি,সে যা বলে মিতু তাই শোনে।তার মানে রাশেদ এমনই চায়,সে চায় না তার বউ তার ব্যাপার নিয়ে তার নিজের ব্যাপার নিয়ে কিছু বলুক।কিন্তু মিতুর মনে হয় ওমন একটা বউই রাশেদের জন্য উপযুক্ত ছিল,যে তার অধিকার আদায় করে নিতে জানে স্বামীর কাছ থেকে,প্রয়োজনে স্বার্থপর ও হতে পারে।

মিতু ভেবেছিল,ওর আনুগত্যের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করবে রাশেদ,কিন্তু যে মানুষ বিয়ের ছ’মাসেও বউকে সামর্থ থাকা সত্ত্বেও একটা গিফট দেয়ার প্রয়োজন মনে করেনা,তার বউয়ের কি দরকার,কি ইচ্ছে করছে এসব কিছুই জানার প্রয়োজন মনে করে না তার কাছে আর কি আশা করবে মিতু…?

এখন যদি,আবদার করে বলবে,দেখো এই যুগের মেয়েদের মতো চাইত চাইতে স্বামীর মাথা খেয়ে ফেলে!শুধু নিজের টা বোঝে…ইত্যাদি।

সুতরাং চুপ করে  মানিয়ে চলা ছাড়া  তো আর কিছু করার নেই।

 

বাসায় ফিরে ফ্রেশ  হয়ে নামাজ পড়ে রান্না বসিয়ে দেয় মিতু,অল্প সময়ের মধ্যে যা পারে তাই রান্না করে টেবিল সাজায়।ওদের ফিরতে দেরী হবে ভেবে ওর শ্বাশুড়ী গেছেন তার বোনের বাসায়।

বিকেলে ওর শ্বাশুড়িকে  সবার সব গুলো শপিং দেখায় মিতু,পাশেই চেয়ারে বসে চা খেতে খেতে রাশেদও দেখতে থাকে,সব দেখে শ্বাশুড়ি খুব খুশী হয়,অনেক প্রশংসা করেন ওর পছন্দের।হঠাৎ তিনি প্রশ্ন করেন,

”কি ব্যাপার মিতু?সবার শপিং দেখছি,তোমার শপিং কই?”

মিতু একটু অপ্রস্তুত  ভঙ্গিতে হেসে বলে,

—আমার জন্য আবার কি কিনবো আম্মা?আমার তো আছেই,সবার জন্য কিনব বলেছিলাম তাই কিনলাম,আমার জন্য পরে কিনবো।”

–তাহলে রাশেদের জন্য যে পাঞ্জাবী কেনা হয়েছে দেখছি্‌,কিরে বাবা?তোর পাঞ্জাবী কেনা হলো,আর মিতুর জন্য কিছু কিনলি না এটা কেমন কথা?

রাশেদ চা খাওয়া শেষ  করে উঠতে উঠতে বলল,

–আমার জন্য মিতু কখন পাঞ্জাবী কিনেছি তা তো দেখিনি,ঠিক আছে,কাল যেয়ে তুমি বরং নিজের জন্য কিছু কেনা-কাটা করে এসো,ওকে?আমি মসজিদে গেলাম মা…”

মিতু কিছু না বলে  চুপচাপ,জিনিস গুলো প্যাক করে জায়গা মতো রেখে নিজের রুমে চলে এলো।

দোকানে দেখে আসা  নীল শাড়িটার কথা মনে  পড়ল মিতুর,একবার ভেবেছিল রাশেদকে ডেকে দেখাবে,কিন্তু কেন জানি লজ্জা লাগছিল,রাশেদ কি ভাববে এই ভেবে আর দেখায়নি।কিন্তু এখন আর শাড়িটা কিনতে ইচ্ছে করছে না মিতুর।

 

লতিফা বেগম তাসবীহ পড়তে  পড়তে রান্না ঘরের দরজায় এসে দাড়ালেন,তার ছেলের বউ রাতের খাবারের জন্য রান্না বসিয়েছে।মিতু শ্বাশুড়ির মুখের দিকে না তাকালেও লতিফা বেগম ঠিকই বুঝতে পারলেন,মেয়েটার অনেক মন খারাপ।হবারই কথা…

বিকেলে যখন বাসায় ফিরে শুনলেন,ওরা দুপুরে বাসায়ই খেয়েছে তখন তিনিও ধাক্কা খেয়েছিলেন,আর বিকেলে শপিং গুলো দেখে ভালো মতোই বুঝতে পারলেন…কি আর করবেন,তিনি তো চেনেন তার ছেলে কে…

–মিতু…

–জ্বী আম্মা,কিছু বলবেন?

–তুমি বোধহয় রাশেদের উপর অনেক বিরক্ত তাই না?

মিতু খুব অবাক হলো!ওর শ্বাশুড়ি কিভাবে টের পেল?!সে তো এইসব কথা কাউকেই বলেনি,এমনকি নিজের মা কেও না…

–অবাক হচ্ছো কেন?আমিও তো বউ ছিলাম একসময়,আর তুমিতো আমার মেয়ের মতোই না বুঝার কি আছে?

মিতু একটু চুপ থেকে বলল,

–নাহ,আম্মা,তেমন কিছু না,হয়তো নতুন নতুন তো তাই মানিয়ে নিতে একটু কষ্ট হচ্ছে…এই আর কি।

–কষ্ট তো হবেই,যদি একা একা মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করো।

মিতু আবারো অবাক হয়ে তাকালো শ্বাশুড়ির দিকে…!লতিফা  বেগম স্বাভাবিক কন্ঠেই বলতে লাগলেন,

–আমি জানি আর দশটা মেয়ের মতো না,সংসারে সবাইকে নিয়েই সুখে থাকতে চাও আর সে জন্যই কি হয় না হয় কাউকে বলো না,তোমার বয়স ও রাশেদের তুলনায় অনেক কম বলা যায়,কিন্তু কাজে কর্মে দেখা যায় তুমিই অনেক ম্যাচিউরড ওর থেকে।

দেখো মিতু,আমার অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি,স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মাঝে মানিয়ে নেয়া ব্যাপারটা একতরফা হতে নেই,দু’জনেই অপিরিচিত ঠিক আছে,কিন্তু তাই বলে একজন সব বুঝে চলবে আরেকজন আগে যেমন ছিল তেমনই থাকবে এটা কেমন কথা?!আমি জানি রাশেদ অনেক বেশি বাস্তববাদী,কম আবেগী মানুষ,কিন্তু তাই বলেতো ওর কথা মতো তুমি তোমার আবেগ কে মেরে ফেলতে পারো না,ও হয়তো বাস্তবতার খাতিরে দায়িত্বের খাতিরে নিজেকে এভাবে গুটিয়ে রেখেছে,কিন্তু তোমার খুশী-অখুশীর খেয়াল রাখাটাও কিন্তু ওর দায়িত্ব,ওকে এই দায়িত্ব থেকে কেন অব্যাহতি দিবে?তুমি ও খুশী হবে ভেবে ওর জন্য পাঞ্জাবী কিনছ অথচ তোমার ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও তুমি তোমার চাওয়ার কথাটা ওকে বলনি সে কিছু মনে করবে ভেবে আর বিনিময়ে সে ও নিজের দায়িত্বটাকে এড়িয়ে বেঁচে গেল,তোমার কি মনে হয় এভাবে তুমি সারা জীবন ওর সাথে থাকতে পারবে?পারবে এভাবে সারা জীবন সহ্য করে যেতে?এতো সহজ মনে হয়?”

মিতু কোন জবাব না দিয়ে মাথা নিচু করে রইল,টপটপ করে পড়তে থাকা অশ্রু মোছার চেষ্টাও করতে পারল না…ওকে চুপ করে থাকতে দেখে ওর শ্বাশুড়ী বলল,

”মিতু,চুপ করে সহ্য করে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ না,বুদ্ধিমানের কাজ হলো পরিস্থিতিকে কৌশলে নিজের আয়ত্বে আনা।রাশেদ কেমন ছিল আগে, কেমন থাকতে চায় সেটা ওর ব্যাপার ওর অতীত।তুমি ওর বর্তমান এবং ভবিষৎ সুতরাং তোমাকে নিয়েই ওকে দরকার হলে সব কিছু আবার নতুন করে সাজাতে হবে,এবং তোমাকেই ওকে এটা বোঝাতে হবে।আমি ওর মা,কিন্তু আমি ভালো করেই জানি আমার ছেলেকে,আর ভুলে যেওনা ওর আশে পাশে আরো অনেক মানুষ থাকে,এসব মানুষকে পরামর্শ দেবার মতো মানুষের অভাব হয় না…সুতরাং বাইরের মানুষকে সেই সুযোগ দিও না,তোমার জিনিস তুমিই সামলে নাও…আশা করি,আমার কথা তুমি বুঝতে পেরেছো।আমাদের সমাজের ছেলেরা সব সময়ই মেয়েদের ভালো গুনের সুযোগ নিতে চায়,সে হোক না যে কেউ,মেয়েরা খারাপ হলেও তারা সেটার সুযোগ নিবে ভালো হলেও সুযোগ নিবে,সুতরাং নিজস্ব গুন দিয়ে নিজের জীবন সাজাও,কান্না দিয়ে না, ঠিক আছে?আর কাঁদতে হবে না,যাও ঘরে যাও,আমি রান্না দেখছি।”

মিতু তারপরেও শ্বাশুড়িকে  জড়িয়ে ধরে অনেকক্ষন কাঁদল।আজ অনেক দিন পর মনে হলো,ওর বুকের ভেতর অনেক বড় একটা পাথর আটকে ছিল যেটা আজ নেমে গেল…

অনেকদিন পর মনে হলো  ও নিঃশ্বাস নিতে পারছে  প্রাণ ভরে…

 

 

(বেশ কিছুদিন ধরেই কানে একটা কথা বাজছে,”এই যুগের মেয়েরা সংসার করতে চায় না,এরা স্বার্থপর হয়…এরা এই এরা সেই…ইত্যাদি ইত্যাদি.রেগে যেয়ে একজনকে বলেই ফেলেছিলাম,’এই যুগের মেয়েরা যখন এতোই খারাপ তো যান,আফ্রিকা জঙ্গলে যেয়ে একটা আদিম যুগের মেয়ে বিয়ে করে নিয়ে আসেন,সুখে শান্তিতে সংসার করেন!’ আমি মনে করি না যুগ দিয়ে মানুষকে বিচার করা সব সময় ঠিক,সব সময়ই যুগের সাথে তাল মেলাতে সবাই চেষ্টা করে,এবং ভুল করার পর আপন ছন্দে ঠিকই ফিরে আসে।কিন্তু তাই বলে কারোরই উচিত না কারো ছন্দপতনের সুযোগ নেয়া…)



সর্বশেষ ১২টি:

.